অদম্য লাদেনের পাশে রিকশাচালক তারা মিয়া 

অদম্য লাদেনের পাশে রিকশাচালক তারা মিয়া 

রিফাত আহমেদ রাসেল, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৪ ৮ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৭:০৪ ৯ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জীবনের প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে শিক্ষায় আলোকিত হওয়া অদম্য শিক্ষার্থী লাদেনের পাশে দাঁড়ালেন রিকশাচালক তারা মিয়া। 

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউপির নাগেরগাতী গ্রামের সাহেব আলীর দ্বিতীয় ছেলে মাসুদুর রহমান লাদেন। এ বছর মুখ দিয়ে লিখে এসএসসি পাস করেছে লাদেন। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর পরিবারের অনুপ্রেরণায় হাতের কব্জির ওপর ভর করেই প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হলো লাদেন। আর্থিক সহায়তা দিয়ে তার পাশে দাঁড়ালেন রিকশাচালক তারা মিয়া। 

বুধবার সকালে পৌর শহরের বাগিচাপাড়ায় লাদেনের হাতে আর্থিক সহায়তায় টাকা তুলে দেন তিনি। উপজেলার সদর ইউপির চকলেংগুরা গ্রামের বাসিন্দা তারা মিয়া। রিকশার চাকা ঘুরলেই চলে তার ছোট্ট সংসারের চাকাও। অভাব-অনটনের মাঝে দিন কাটলেও আয়ের কিছুটা অংশ রেখে দেন মানবতার সেবার জন্য । 

রিকশাচালক তারা মিয়ার নামটি উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মুখের হাসি। রিকশা চালিয়ে উপার্জিত অর্থের একটা অংশ সবসময়ই বিলিয়ে দেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সামগ্রী ক্রয় করেই। প্রায় ৪ বছর যাবত উপজেলার ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসার হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা, কলম, পেন্সিল, পেন্সিল বক্স, টিফিন বক্স, ফুটবলসহ বিভিন্ন প্রকার উপকরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে আসছেন তারা মিয়া। 

তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারা বিশ্বই এখন স্তব্ধ। এই স্তব্ধতায় দেশেও গত মার্চ মাস থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থীরা এখন বাড়িতেই পড়াশোনা ও খেলাধুলা করে আসছে। 

একদিকে বৈশ্বিক মহামারি অপরদিকে গত কয়েক মাস ধরে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে না পারায় মন ভালো নেই তারা মিয়ার। তাই করোনা এই দুর্যোগের মাঝেই বিকল্প চিন্তাধারার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। 

গত ১ মে করোনায় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে নিজের জমানো ১০ হাজার ২শ’ টাকা দান করেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। গত ২৪ জুন পুরাতন রিকশা বিক্রির ১০ হাজার টাকা দেন গ্রামের অসহায় ও আদিবাসী ৩০ পরিবারের মাঝে। তার এই কাজের মধ্য দিয়ে মানবতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বলে মনে করেন উপজেলা সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা। 

তাদের মতে, সমাজে এরকম কয়েকটি মানুষ তৈরি হলেই এই সমাজকে পরিবর্তন সম্ভব। এই সমাজের শিক্ষার অভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে প্রতিটি শহরে বা প্রতিটি গ্রামেই তারা মিয়ার মতো একজন ব্যক্তি প্রয়োজন । 

তারা মিয়া ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, গরিব হতে পারি। তবে আমারও ইচ্ছা আছে মানুষের জন্য কিছু করার। আল্লাহতায়ালা আমাকে যতটুকু দিয়েছেন তাতেই অনেক খুশি। আমার আয়ের একটি অংশ থেকে মানুষের জন্য কিছু করতে চাই, মানুষের পাশে থাকতে চাই।  

এ ব্যাপারে ইউএনও ফারজানা খানম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, তারা মিয়া যেভাবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে অনেক প্রশংসনীয়। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তার এই কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই ও তাকে ধন্যবাদ জানাই। তার এই কাজে উপজেলা প্রশাসন সবসময়ই সার্বিক সহায়তা করে যাবে। 

তারা মিয়ার মতো একজন সাদা মনের মানুষকে সম্মানিত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তাকে সম্মাননা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে