Alexa অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের হাল ধরা রাণী পেলেন শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা

অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের হাল ধরা রাণী পেলেন শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪৯ ৯ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা পেলেন অটোরিকশা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করা রাণী দত্ত।

সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা পান তিনি।
 
ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডিসি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, এএসপি মো. আবু তারেক, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন প্রমুখ।

জেলার পাঁচ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু ক্যাটাগরিতে যাত্রী রাণী দত্ত, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে নাসরিন আক্তার খানম, সফল জননী ক্যাটাগরিতে লক্ষী রাণী ও ফরিদা বেগম।

জানা গেছে, রাণী ভালোবেসে বিয়ে করেন হৃদয় দত্তকে। কিন্তু ভালোবাসার বিয়ে মেনে নেয়নি হৃদয় দত্তের পরিবার। বিয়ের ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও রাণী দত্ত পাননি শ্বশুর-শাশুড়ির ভালোবাসা।

নাতি-নাতনির মুখ পর্যন্ত দেখতে চান না তারা। কিন্তু স্বামীর ঘরেও সুখ হয়নি তার। বিয়ের এক মাস কাটতে না কাটতে স্বামী হৃদয় দত্ত তাকে মারধর করেন। তাকে রোজ মারধর করতেন। এগুলো নিয়ে প্রতিবাদ করলেই তাকে নির্যাতন করেছেন। যখন বড় ছেলের জন্ম হয়েছে তখন পাশে পাননি স্বামীকে। একাই হাসপাতালে গেছেন, সেখানে বাচ্চা প্রসবের পর একাই বাসায় এসেছেন। এখন তিন সন্তানের মা রাণী দত্ত। 

তার এক ছেলে দুই মেয়ে। সংসারের সব খরচ তার স্বামীই চালাতেন। তবে তিনি নিয়মিত কাজ করেন না। পরে  রাণী সিদ্ধান্ত নেন কিছু একটা করবেন। এরপর তিনি স্বামীর কাছ থেকে অটোরিকশা চালানো শিখেন এবং ৭ মার্চ তিনি অটোরিকশা নিয়ে প্রথমবার শহরে বের হন এবং এখন পর্যন্ত অটোরিকশা চালিয়ে জীবন-যাপন করছেন।

শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা পাবার পর রাণী দত্ত বলেন, এ সম্মাননা সব নারীর সাহস জোগাবে। একজন নারী যে পুরুষ থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না এবং নারীও যে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতে পারে এটাই বড় উদাহারণ। আজকে যে সম্মাননা আমাকে দেয়া হয়েছে আমি তা কোনোদিন ভুলবো না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে