অজ্ঞান পার্টির ৮ সদস্য গ্রেফতার

অজ্ঞান পার্টির ৮ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪১ ১৩ এপ্রিল ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বাসা ভাড়া নিয়ে মালিককে অজ্ঞান করে সোনার গয়না, ঢাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়া সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টির নারীসহ ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতদের নাম- সীমা, লিপি, বেবী আক্তার ওরফে বকুল, আমিরন ওরফে আমিরুন্নেছা, মুক্তা , কুলছুম ওরফে সাথী, মো. মনির হোসেন ওরফে বাবু ও মোছা. তাসলিমা আক্তার মনা ওরফে ময়না। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ঈদগাহ মাঠ এলাকা ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, গত বছর ২৫ আগস্ট ডেমরা’র পূর্ব বক্সনগরের একটি বাসায় গিয়ে বাসা ভাড়া নেয়ার জন্য কয়েকজন নারী মালিকের সঙ্গে কথা বলে। পরদিন তারা বাসা ভাড়া চূড়ান্ত করার জন্য সকাল ৯টা দিকে ওই বাসায় যায়। কথা বলার একপর্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বাসার মালিক হাজী আব্দুস ছাত্তার (৭০) ও তার স্ত্রী সাহেরা খাতুনকে (৬০) চেতনানাশক ঔষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে। পরে ওই বাসা থেকে সোনার তৈরি কানের রিং, টেবিলে থাকা ছোট ২টা চার্জার লাইট ও ২টা পুরানো ম্যাক্সি নিয়ে পালিয়ে যায়। বিকেল ৫ টার দিকে বাসার অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা অচেতন অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে য়ায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট ডেমরা থানায় ১টি মামলা করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে থানা পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করে। পরে মাঠে নামে ডিবি’র ডেমরা জোনাল টিম। তদন্তের সময় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত আসামিদের শনাক্ত করা হয়। তাদের অবস্থানও নির্ণয় করে ডিবি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ ঈদগাহ মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সীমা, লিপি, বেবী আক্তার ওরফে বকুল, আমিরন ওরফে আমিরুন্নেছা, মুক্তা, কুলছুম ওরফে সাথী ও মো. মনির হোসেন ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয় তথ্যে ওই দিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে অপর অভিযুক্ত মোছা. তাসলিমা আক্তার মনা ওরফে ময়নাকে গ্রেফতার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে, ঘটনার দিন তারা কয়েকজন বাসা ভাড়া নেয়ার কথা বলে ওই বাসায় যায়। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাসার মালিক ও তার স্ত্রীর সঙ্গে খাতির জমিয়ে ঘুমের ওষুধ মেশানো শরবত খাইয়ে দেয়। দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে জন্য মালিকের মাথায় ও দাড়িতে এবং তার স্ত্রীর মাথায় মেহেদি লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্ত ওই নারীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই মলিক ও তার স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়লে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। 

তারা আরো জানিয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টির সদস্য তারা। প্রথম তারা টার্গেট করে। পরে টার্গেট করা বাসায় বা ফ্ল্যাটে গিয়ে মালিককে চেতনা নাশক ওষুধ মিশিয়ে দেয়, সরবত জাতীয় পানিয় খাইয়ে অজ্ঞান করে মালামাল লুটে নেয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তাদেরকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/এমআরকে