Alexa অজান্তেই যে খাবারগুলোতে হতে পারে অ্যালার্জি 

অজান্তেই যে খাবারগুলোতে হতে পারে অ্যালার্জি 

আঁখি আক্তার  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২০ ১৩ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অনেকেরই ধারণা অতিরিক্ত গরমে ও ধূলাবালির কারণে আমাদের অ্যালার্জি হয়ে থাকে। কিন্তু জানেন কি শুধু ধূলাবালি বা গরমই নয়, আমাদের অজান্তেই বিভিন্ন খাবারের কারণেও শরীরে অ্যালার্জি হয়। সঠিক ভাবে না জানার ফলে আমরা এমন কিছু খাবার খেয়ে থাকি যা আমাদের শরীরে মানিয়ে নেয়া সম্ভব হয়না। এবং আমারা হয়তো কখনই ভাবতেই পারিনা যে এই খাবারগুলোর কারণে আমরা অ্যালার্জির সম্মুখীন হতে পারি। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেই খাবারগুলো এবং লক্ষণ ও প্রতিকার-  

১. আমে অ্যালার্জি
জানেন কি,আমের কস বা খোসা মুখে লাগলেই কিছু মানুষের অ্যালার্জি হয়। যদি কারো অনেক বেশি পরিমাণে অ্যালার্জি থেকে থাকে তাদের ক্ষেত্রে আমের খোসা বা আমের কস না লাগলেও শুধু আম খেলেও অ্যালার্জি হয়ে থাকে। চলুন জেনে নেয়া যাক এর লক্ষণ ও প্রতিকার-

লক্ষণ
আমের অ্যালার্জিতে দুই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়।
১. শুধু মুখে ও মুখের চারপাশে ফুলে যায় বা চুলকানি হয়।
২. সারা শরীরে চাকা চাকা হয়ে ফুলে যায় ও চুলকানি হতে পারে। অনেকের শ্বাস-কষ্টও হতে পারে।

প্রতিকার
যাদের আমে অ্যালার্জি রয়েছে, তারা আম ভালো করে ধুয়ে, কস পরিষ্কার করে খোসা ছাড়িয়ে খান। এরপরও যদি আপনার আমে অ্যালার্জি হয়ে থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে অ্যালার্জির জন্য ওষুধ সেবন করুন। 

২. বাদাম ও শেলযুক্ত মাছ
প্রায় সব ধরনের বাদামেই কিউপিন, প্রোলামিন, প্রোফিলিম এবং বেট-ভি-১ জাতীয় প্রোটিন থাকে যার কারণে অনেকের অ্যালার্জি হয়ে থাকে। আর শেল-যুক্ত মাছ যেমন- চিংড়ি, কাঁকড়া ইত্যাদি খেলেও অ্যালার্জি হয়। আবার অনেক সামুদ্রিক মাছ, যেমন- টুনা, কোরাল ইত্যাদি মাছেও অনেকের অ্যালার্জি হয়ে থাকে। যারা প্রায়ই বাদাম ও শেল-যুক্ত মাছ খেয়ে থাকেন অর্থাৎ যাদের এই খাবারে অ্যালার্জি নেই, তাদেরও যেকোনো সময় অ্যালার্জি হতে পারে।

লক্ষণ
বাদাম ও শেল-যুক্ত মাছ খেলে প্রায় একই ধরনের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। যেমনঃ চুলকানি, শ্বাসকষ্ট, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি দেয়া, শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাকা চাকা হয়ে ফুলে যাওয়া।

প্রতিকার
আপনার যদি বাদাম ও সামুদ্রিক মাছে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে আপনার প্রথম পদক্ষেপ হলো তা এড়িয়ে চলা। আর অল্প পরিমাণে অ্যালার্জি হলে ডাক্তারের পরামর্শে এন্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন।

৩. দুধে অ্যালার্জি 
অবাক হলেও সত্যি যে দুধেও মানুষের অ্যালার্জি হয়। তবে খুঁজলে হয়তো হাতে গোনা কয়েকজনকে মাত্র পাওয়া যাবে। মিল্ক অ্যালার্জি সাধারণত ল্যাকটোজ এনজাইম কম থাকলে বা ল্যাকটোজ এনজাইমের দ্বারা দুধ বা দুগ্ধজাতীয় খাবার সঠিকভাবে পরিপাক না হলে আপনার দেহে যে সকল সমস্যা দেখা দেয় তাই। এছাড়াও গরুর দুধে আলফা এস-১ ক্যাসেইন প্রোটিন থাকে যা অ্যালার্জির জন্য দায়ী।

লক্ষণ
যাদের দুধে অ্যালার্জি আছে, তাদের দুধ বা দুগ্ধজাতীয় খাবার খাবার কয়েক ঘন্টা পর থেকে বা একদিনের মধ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যে লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে পেটে ব্যাথা, পাতলা পায়খানা ও কখনো কখনো পায়খানার সাথে মিউকাস ও রক্ত যাওয়ার সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া নাক দিয়ে পানি পড়া, সাইনোসাইটিস, কফে সকল সমস্যা দেখা যায়। স্কিন-এ র‍্যাশ ও দেখা যায়। আর খুব তাড়াতাড়ি লক্ষণ প্রকাশ পেলে বমি ও শরীর লাল লাল চাকার মত হয়ে ফুলে যেতে পারে। 

প্রতিকার
মিল্ক অ্যালার্জি যাদের আছে তাদের সাধারণত এই সমস্যা ছোট থেকেই দেখা দেয়। তাই তারা মূলত আগে থেকেই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। কিন্তু তারপরও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। যতটা সম্ভব দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। প্যাকেটের খাবার কিনলে খেয়াল করে কিনুন। দেখুন যেখানে ‘ডেইরী’ শব্দটি লেখা আছে তা এড়িয়ে চলুন। আর যদি ডেইরী না লেখা থেকে শুধু ‘D’ লেখা থাকে, তাহলেও বুঝতে হবে তাতে দুধ রয়েছে। ভালোভাবে দেখবেন কিন্তু, ‘vit-D’ আর ‘D’-এ দুটি মিলিয়ে ফেলবেন না যেন।

৪. ওষুধ সেবনে অ্যালার্জি  
ওষুধেও অ্যালার্জি হয়। তবে সব ওষুধে অ্যালার্জি হয় না। কিন্তু যাদের ওষুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের পেনিসিলিন, সালফোনামাইডস অ্যাসপিরিন, ইবুপ্রফেন জাতীয় ওষুধে অ্যালার্জি হয়। ওষুধের কারণে যদি অ্যালার্জি হয় তবে তা সেবনের সাথে সাথেও হতে পারে আবার কয়েক ঘন্টা বা এক সপ্তাহ পরেও হতে পারে।

লক্ষণ
ওষুধ অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করলে প্রতিক্রিয়া স্বরূপ সাধারণত চুলকানি, হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ, শ্বাসকষ্ট, শরীরে চাকা হয়ে ফুলে ওঠা এমনকি জ্বরও হতে পারে।

প্রতিকার
এক্ষেত্রে ঔষধ সেবনের পূর্বে আপনার অ্যালার্জি সম্পর্কে ডাক্তারকে অবশ্যই অবগত করুন ও ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ সেবন করুন।

জানেন কি, দুধের মত ডিমেও কিন্তু অনেকের অ্যালার্জি হয়। আর ফলের মধ্যে আম একাই অ্যালার্জেন নয়। কলা, আঙ্গুর ও অন্যান্য ফলও অ্যালার্জেন। তাছাড়া বেগুন, ইলিশ, মিষ্টি কুমড়াতেও অ্যালার্জি রয়েছে। তাই যেকোনো খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই অ্যালার্জি সম্পর্কে ভালভাবে জানুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ