অচেনা শহরে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ৮ বছর পর ফিরে পেলেন মা

অচেনা শহরে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ৮ বছর পর ফিরে পেলেন মা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৩ ৪ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২০:০৮ ৪ জুলাই ২০২০

আট বছর পর ছেলেকে ফিরে পেলেন মা

আট বছর পর ছেলেকে ফিরে পেলেন মা

দীর্ঘ আট বছর আগে ঢাকার তুরাগ এলাকা থেকে অচেনা এক শহরে হারিয়ে যান মাইদুল ইসলাম সুজন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। ছোট্ট ছেলেকে হারিয়ে সেই সময় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি মা। একপর্যায়ে সন্তানের আশা ছেড়ে দেন তিনি। অবশেষে সেই ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন মা বিলকিস বেগম।

শুক্রবার রাতে পটুয়াখালী সদর থানায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে মাইদুল ইসলাম সুজনকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন অ্যাডিশনাল এসপি মো. মাহফুজুর রহমান। 

জানা গেছে, ১০ বছরের ছেলে মাইদুল ইসলাম সুজনকে নিয়ে মা বিলকিস বেগম ঢাকার তুরাগ এলাকায় বোন মোর্শেদা বেগমের বাসায় থাকতেন। ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সুজনকে ফ্লেক্সিলোড করতে বাইরে পাঠান মা। এরপর আর বাসায় ফেরেনি সুজন। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে একই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি তুরাগ থানায় জিডি করেন বিলকিস।

ইসলামী আন্দোলনের পটুয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আরআইএম অহিদুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার আমার এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে শহরে কলাতলা এলাকার প্রিয়জন কম্পিউটারে মাইদুলের সন্ধান পাই। সুজন তাকে বাবার নাম মতিউর রহমান মুন্সি, মায়ের নাম বিলকিস, বাড়ি টেপুরা বলে জানান। এরপর আমতলী থানার হলুদিয়া ইউপির টেপুরার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আবু সালেহকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানাই। পরে সব তথ্য বিশ্লেষণ করে ছেলেটিকে শনাক্ত করেন। শুক্রবার দুপুরে সুজনকে নিয়ে টেপুরার বাড়িতে উপস্থিত হই। এরপর মা, নানি ও মামারা দেখে সুজনকে শনাক্ত করেন। এ সময় ওই বাড়িতে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তিনি আরো বলেন, সুজনকে খোঁজ পাওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিক পটুয়াখালীর এসপি মোহাম্মদ মইনুল হাসান ও ওসি আখতার মোরশেদকে জানানো হয়। পরে পুলিশের মাধ্যমে সুজন পরিবারের কাছে ফিরে যান।

দীর্ঘ আট বছর পর ছেলে মাইদুল ইসলাম সুজনকে ফিরে পেয়ে মা বিলকিস বেগম আনন্দে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী নেই। ছেলেকে হারিয়ে এ আটটি বছর আমি মরার মতো বেঁচে ছিলাম। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া। আল্লাহর অশেষ রহমতে আট বছর পরেও হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেয়েছি।

সুজনের মামা জসিম উদ্দিন মুন্সি বলেন, হারিয়ে যাওয়া ভাগ্নেকে আর কোনোদিন ফিরে পাব ভাবতেও পারিনি। আল্লাহর কৃপায় আট বছর পর ভাগ্নেকে ফিরে পেয়েছি। আজ আমাদের পরিবারের মাঝে কত আনন্দ লাগছে তা বোঝাতে পারব না।

পটুয়াখালী শহরের কোর্ট এলাকার প্রিয়জন কম্পিউটারের পরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, ২০১২ সালে সুজনকে পাই। তখন বাবা-মায়ের নাম বলতে পারলেও সুজন আর কিছু বলতে পারেনি। দীর্ঘদিন তাকে নিজের ছেলের মতোই মানুষ করেছি। শুক্রবার সুজন তার পরিবার ফিরে পেয়েছে। পরিবারের কাছে চলে গেছে। এতে অন্য রকম ভালো লাগছে।

বরগুনার আমতলী থানার হলুদিয়া ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য ও দক্ষিণ কাঁঠালিয়া তাজেম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ আবু সালেহ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পটুয়াখালী ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি আরআইএম অহিদুজ্জামানের মাধ্যমে সংবাদ পাই- আমার ওয়ার্ডের এক ছেলে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিল। তাকে পটুয়াখালীতে পাওয়া গেছে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে ওই এলাকায় খোঁজ নেই। সুজনের ছোট নানা হলদিয়া টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে সব তথ্য পাই। এরপর সঠিক তথ্য দেয়ায় বিষয়টি জানাই। দীর্ঘ আট বছর পর টেপুরার এক মা তার সন্তান ফিরে পেয়েছে।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি আখতার মোর্শেদ জানান, আট বছর আগে ঢাকার তুরাগ এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মাইদুল ইসলাম সুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার মা বিলকিস বেগমের হাতে তুলে দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর